বিটকয়েন: কীভাবে তার থেকে সর্বোচ্চ লাভ পাবেন

Moderators: kayum, Mramushi

Forum rules
English language is forbidden on this local forum!

You only need to talk about cryptocurrency or you will be banned from the forum and lose your wallet !!

আপনি শুধুমাত্র cryptocurrency সম্পর্কে কথা বলতে হবে বা আপনার ফোরাম থেকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং আপনার ওয়ালেট হারান !!

Forum to ask questions ... Forbidden copied / pasted texts !!
Post Reply
Ledger Nano S - The secure hardware wallet

Topic author
ebrahim
BabyUnicorn
BabyUnicorn
Posts: 60
Joined: 19 Feb 2018, 06:30
Cash on hand: 50,244.52
Has thanked: 0
Been thanked: 1 time
Bangladesh

#31021

22 Mar 2018, 14:04

যদি আপনি চেষ্টা করেন বর্তমানের সবচেয়ে উৎসাহজনক সম্পদে ট্রেড করতে, তাহলে আপনার সবচেয়ে ভালো উত্তর হবে Bitcoin। কারণ? এটি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টো-কারেন্সি এবং ডিজিট্যাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। যখন আপনি নেট ব্রাউজ করেন এবং খবর পড়েন তখন আপনি অবশ্যই তাদের নাম দেখতে পান ও তাদের পাশে বাড়তে থাকা সংখ্যাও দেখতে পান। 2017 সালে, সবাই এটির বিষয়ে কথা বলছে এবং তার থেকে বেশি লাভ নেওয়ার জন্য উপায় খুঁজছে। তাই এই শোরগোলটি কিসের?

প্রথম বারের জন্য বিশ্বের সাথে Bitcoin -এর পরিচয় হয়েছিল 2009 সালে, যখন সাতোশি নাকামোটো একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন যার শিরোনাম “Bitcoin: আ পিয়ার-টু-পিয়ার ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম”। যা এটিকে সম্পূর্ণ বৈপ্লবিক করে তুলেছে তা হল এটি পিয়ার-টু-পিয়ার ব্যবস্থা (P2P), যেখানে লেনদেন করা হবে ব্যবহারকারীদের দ্বারা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরাসরি, কোনো মধ্যবর্তী, কমিশন বা বিলম্ব ছাড়াই। সমস্ত অ্যাকাউন্টধারীরা অনামী থাকে, যেখানে লেনদন নিরাপদ রাখা হয় কোড এব সাধারণ রেকর্ড দ্বারা। সেটিকে বলা হয় ব্লক-চেইন এবং আরও বেশি বেশি মানুষেরা তাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বলে মনে করে। তাই বিশ্বজুরে আরও বেশি করে এটির অনুসরণকারী বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই বছরে Bitcoin সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে, যেখানে তার দাম 8 গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্ল্যাক ফ্রাইডে শপিং আর থ্যাংকস গিভিং-এর ধাক্কায় অনেক বিনিয়োগকারীরাই এটির বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, যার কারণে Bitcoin বৃদ্ধি পেয়েছে এক সপ্তাহে প্রায় 6% -এর বেশি।

26 নভেম্বর সকাল 06:40 UTC -তে Bitcoin -এর দাম ইতিহাসে প্রথমবার $9,000 -এ পৌঁছেছিল। কিন্তু সেটি সেখানেি থেমে থাকে নি এবং মাত্র 35 মিনিট পরেই সেটি বিশ্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে পৌঁছে যায় $9,043 -তে। ক্রিপ্টো-কারেন্সি-এর সারা বাজার এখনও প্রভাবিত হচ্ছে সংযুক্ত বাজারের মূল্যের সর্বোচ্চ মান অর্জন করে - $285 বিলিয়ন।

Price Bitcoin (USD)
ক্রিপ্টো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, টিম এনেকিং পরামর্শ দিয়েছেন: "Bitcoin -এর দামের পিছনে ছুটবেন না। একটি এন্ট্রি পয়েন্ট বেছে নিন এবং সেটিকেই অবলম্বন করুন। Bitcoin -এর সাথে, আপনি প্রায় সবসময়েই সঠিকভাবে আগে থাকতে দাম নির্ধারণ করতে পারবেন – আপনার সময়জ্ঞান এদিক-ওদিক হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরবেন, এবং Bitcoin দামকে আপনার কাছে আসতে দেবেন।"

লাভজনক Bitcoin ট্রেডিংয়ের জন্য 7টি টিপস:
ফাটকায় সময় নষ্ট করবেন না - শিখে নিন কীভাবে সেটি প্রথমে কাজ করে। অনলাইনে Bitcoin সম্পর্কে প্রচুর তথ্য আছে, আপনির নিজের সুবিধার জন্য সেটি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন।
সতর্ক থাকুন, এখানে উচ্চ ঝুঁকি থাকবে। যদি আপনি Bitcoin ট্রেডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে চান তবে আপনাকে তৈরি হতে হবে তার ঝুঁকির জন্য।
মনে রাখবেন Bitcoin কিন্তু খুবই অস্থির। তার সাথে তুলনা করা যায় এমন কিন্তু কিছু নেই, তাই আপনার টাকা প্রভূত পরিমাণে সেখানে ঢালবেন না, বিশেষ করে যদি আপনি শেখেন কীভাবে সেটিকে নিয়ে কাজ করতে হয়।
এমন একটি কৌশল বেছে নিন যা তার সাথে খাপ খায়। বর্তমানে, Bitcoin ট্রেডারদের অধিকাংশই পছন্দ করে ডলার কস্ট অ্যাভারেজিং অথবা তারা শুধুমাত্র তাদের বিনিয়োগ আঁকড়ে ধরে থাকে যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু ঘটে (এটিকে সাধারণ বলা হয় ‘hodl বা হোডল’ )
আপনার বিনিয়োগে বিভিন্নতা আনুন এবং একই স্থানে অতি-বিনিয়োগ করবেন না। অতি মাত্রায় ঝুঁকি পরিচালনা করা ঠিক নয়।
খেলায় এগিয়ে থাকুন (সাথে বিশ্ব থেকে কয়েক কদম)। খবর অনুসরণ করুন এবং কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে সাম্প্রতির প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করুন। Bitcoin বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করুন।
আপনার বিটকয়েন নিরাপদে রাখুন এবং হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন। এটি ঘিরে প্রচুর হৈচৈ হচ্ছে এবং, দুর্ভাগ্যবশত, তাই এটিতে দুর্বলতা দেকা যেতে পারে। নিরাপদ থাকুন!বিট কয়েন ॥ ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ডিজিটাল গোল্ড হয়ে ওঠা
প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৮ Print New 0 0 Google +0 0 বিট কয়েন ॥ ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ডিজিটাল গোল্ড হয়ে ওঠা
কাওসার রহমান
একসময় অস্তিত্ব টের পাওয়া না গেলেও ধীরে ধীরে পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল কারেন্সি বিটকয়েন। নাম পরিচয় গোপন রেখে সরাসরি গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এ মুদ্রার লেনদেন হয়। আর এ কারণেই একে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। বিটকয়েন নামের এই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের মুদ্রা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদরা। তবে মুদ্রা ব্যবস্থায় লেনদেনের এ গোপনীয়তা সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, সাইবার ক্রাইমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৭ সাল ছিল এই বিটকয়েনের উত্থানের বছর। এ বছরের শুরুর দিকে বিট কয়েনের দাম ছিল ১ হাজার ডলারের মতো। তারপর এর দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গত নবেম্বর থেকে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়তে থাকে এর দাম। বাড়তে বাড়তে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিটকয়েনের দাম ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। চারদিকে হুলুস্থল পড়ে যায় এই ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে। দেশে দেশের অর্থনীতির নীতি নির্ধারকরাও নড়ে চড়ে বসেন। এক বছরে একটি ডিজিটাল মুদ্রার ১,৫৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধিতে সবাই হতবাক হয়ে যান। কয়েন বিশারদরা একে ‘ডিজিটাল গোল্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ফান্ড ম্যানেজাররা ছোটেন এই ডিজিটাল গোল্ডের পেছনে। কারণ শুরুর দিকে এক বিটকয়েনের মূল্য ছিল মাত্র ২৫ সেন্ট। ২৫ সেন্টের একটি ভার্চুয়াল মুদ্রার মূল্যমান মাত্র কয়েক বছরেই ২০ হাজার ডলারে পৌঁছাবে তা কেউ কোনদিন ভাবতেই পারেনি। ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সির জগতে বিটকয়েনের অবস্থান শীর্ষে থাকলেও এরইমধ্যে বাজারে এসেছে ইথেরিয়াম, বিটকয়েন ক্যাশ, রিপল, ড্যাশ, লাইটকয়েন, মোনেরো, জিক্যাশ, ড্যাশ প্রভৃতি নামের অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি। বর্তমানে সারাবিশ্বে সর্বমোট ১ হাজার ৩৭৫টি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। কিন্তু বিট কয়েনের মতো এত জনপ্রিয়তা আর কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি পায়নি। যদিও সব ডিজিটাল মুদ্রা নিয়েই সতর্ক বার্তা জারি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীতে টাকা, ডলার, পাউন্ডের মতো ১৮০টি মুদ্রা চালু রয়েছে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক হয়ে উঠেন। তারা বিটকয়েনে বিনিয়োগের ব্যাপারে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিটকয়েনকে এক ভয়াবহ জুয়া বলে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এন্ডরু বেইলিও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা সরকার এ মুদ্রাকে অনুমোদন দেয়নি। তাই এর পেছনে বিনিয়োগ মোটেই নিরাপদ নয়।’ বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকদের এই সতর্কতা অবশ্য কাজে দিয়েছে। ২২ ডিসেম্বর এসে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে বিটকয়েনের। ২০ হাজার ডলার থেকে ১১ হাজার ডলারে নেমে আসে এই ভার্চুয়াল মুদ্রাটির মূল্যমান। তবে দু’দিন বাদেই আবার ঘুরেও দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত বছরের শেষে এসে ১৫ হাজার ডলারের কোটায় অবস্থান করে।

যদিও মুদ্রাটির উৎস সম্পর্কে খুব কমই বোঝা যায় এবং ব্যবহারও খুবই সীমিত। তারপরও এই মুদ্রাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত তোলপাড় অতীতে কোন মুদ্রার ক্ষেত্রে হয়নি। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে এ বছর এই অদেখা মুদ্রা নিয়ে এতে মাতামাতি মুদ্রাটিকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপের দেশে দেশে এ মুদ্রা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এশিয়ায় এখনও অবৈধ এ মুদ্রার লেনদেন। এশিয়ায় বিটকয়েন অবৈধ রাশিয়া, ভারতের, চীন, বাংলাদেশ, সুইডেন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ আরও বেশকিছু দেশে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ থাকায় রয়েছে দরপতন এবং হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা। তাই পশ্চিমা বিশ্বে বিটকয়েন কেনা সহজ হলেও এশিয়ায় এ ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হয় গোপনে।

বিটকয়েন এমন একটি মুদ্রা যা চোখেও দেখা যায় না, আবার হাতেও ধরা যায় না। তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই লেনদেন হয় সরাসরি গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কাছে, শুধুমাত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এ কারণেই ভার্চুয়াল এ মুদ্রার নাম হয়েছে বিটকয়েন। নতুন ইলেক্ট্র্রনিক ক্যাশ ব্যবস্থায় এ মুদ্রার লেনদেন হয় কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

বিটকয়েন মুদ্রাব্যবস্থায় যুক্ত হতে হলে ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ই-কারেন্সি লেনদেনের মাধ্যম কয়েনবেসে খুলতে হয় এ্যাকাউন্ট। এ্যাকাউন্ট খুলতে হলে সমাধান করতে হয় গাণিতিক কিছু সমস্যার। এ্যাকাউন্ট খোলার পর গ্রাহকের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে সফটওয়্যার ইনস্টল করে নিলেই পরিচালনা করা যায় বিটকয়েন এ্যাকাউন্ট। ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডে কয়েনবেসের মাধ্যমে লেনদেন করে বিটকয়েন কেনাবেচা করতে পারেন গ্রাহক। তাই তো ক্যাশলেস অর্থনীতির নতুন পথ প্রদর্শক এ মুদ্রাব্যবস্থাকে ভবিষ্যত প্রজন্মের মুদ্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রযুক্তিবিদরা। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘দৃশ্যমান মুদ্রাব্যবস্থার চেয়ে ভার্চুয়াল মুদ্রাব্যবস্থা বেশ ভাল। এটার সঙ্গে অর্থ পাচার কিংবা সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে এটি বড় বিনিয়োগের মাধ্যমও হতে পারে।’

বিল গেটস কিংবা প্রযুক্তিবিদরা এই মুদ্রার স্বপক্ষে কথা বললেও, এই ডিজিটাল মুদ্রা থেকে এক শ’ হাত দূরে থাকতে বলছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ, কিংবদন্তি ধনকুবের ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফে। তাদের কাছে বিটকয়েন নেহাতই মরিচিকা। এর থেকে মানুষকে সতর্ক করছেন বিভিন্ন দেশের আর্থিক নিয়ন্ত্রকরাও। তাদের মতে, মুনাফার লোভে এখানে সর্বস্বান্তও হতে পারেন কেউ। বিভিন্ন বেআইনী কাজে এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবারই। বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ। টাকা হারিয়েছেন লগ্নিকারীরা। শুধু বিটকয়েন একা নয়। এমন বহু ডিজিটাল মুদ্রার ফাঁদ পাতা রয়েছে নেটের ভুবনে।

এত হুঁশিয়ারি এত সতর্কবার্তার পরও থেমে নেই বিট কয়েনের দাপট। ইন্টারনেটে ঢুঁ মারলেই এখন বিটকয়েনের বিজ্ঞাপন। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার হাতছানি। হাজার টাকা ঢাললে নাকি এক বছরেই তা কয়েক কোটি। অথচ জিনিসটা আদপে কী, তা-ই সবার কাছে স্পষ্ট নয় এখনও। এ মুদ্রার ঠিকুজি অজানা। যে কোন দিন কিন্তু তা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে স্রেফ কর্পূরের মতো। মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টেবিলে বসানো পুরনো কম্পিউটারে ইদানিং নেট খুলতেই চোখের সামনে চকচকে মুদ্রা। হালে আগাম লেনদেনে ১ বিটকয়েনের দাম ছাড়িয়েছিল ২০ হাজার ডলার এখন তা ১৫ হাজার ডলারের ধারে পাশে। রীতি মতো চোখ কপালে ওঠার মতো অঙ্ক? এক বছরে এই মুদ্রার দাম বেড়েছে ১৫শ’ ৫০ শতাংশ। চোখে-চিন্তায় ধাঁধা লেগে যাওয়ার মতোই বটে। আর হয়তো সেই কারণেই আছড়ে পড়তে শুরু করেছে বিজ্ঞাপন ‘এখানে টাকা রাখুন’।

অথচ এই মুদ্রার অনেক কিছুই এখনও স্পষ্ট নয়। ধোঁয়াশায় ভরা। এই কয়েন কোন দেশের নয়। কোন নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নেই। অনেকটা হাওয়ার ভিতে অট্টালিকার মতো। বাস্তবে বিটকয়েনের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় তার উপস্থিতি এই মুহূর্তে যথেষ্ট চর্চিত বিষয়।

বিটকয়েন কী : বিটকয়েন হলো অনলাইন লেনদেনে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের মুদ্রা (ডিজিটাল কারেন্সি)। তা দিয়ে কেনাকাটা করা কিংবা টাকা মেটানো যাবে শুধু নেটেই। ১ টাকা মানে যেমন ১০০ পয়সা, তেমনই ১ বিটকয়েন মানে ১,০০০ মিলি-বিটকয়েন। আর ১ মিলি-বিটকয়েন= ১,০০,০০০ শাতোশি।

এই মুদ্রার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ, এতে লেনদেনকারীর পরিচয় গোপন থাকে। তার বদলে ব্যবহার হয় সঙ্কেতলিপি। অর্থাৎ, অন্য ডিজিটাল লেনদেনে যেমন বলা যায় যে, তা কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা বলা যায় না। শুধু জানা যায় এক এ্যাকাউন্ট থেকে অন্যটিতে তার লেনদেন হয়েছে। তবে যদি এক্সচেঞ্জের লেনদেন (ট্রেডিং) করতে চান অথবা বিটকয়েন ভাঙিয়ে টাকা হাতে নিতে চান, তা হলে পরিচয় গোপন রাখা শক্ত। এটা ব্যবহার করা যায় মোবাইল, ট্যাবলেট ও কম্পিউটার মারফত। শুধু ইন্টারনেট থাকলেই হলো। বিশ্বেও বেশ কিছু নামী সংস্থা এবং ওয়েবসাইট বিটকয়েনের মাধ্যমে টাকা নেয়। দু’জনের হাতে এই মুদ্রা থাকলে, লেনদেন করা যায় নিজেদের মধ্যেও।

কারিগর কে : এই মুদ্রার কারিগর হলেন শাতোশি নাকামোতো। ২০০৮ সালে তিনিই প্রথম তৈরি করেন এই মুদ্রার সফটওয়্যার। কিন্তু তিনি কি একজন মানুষ? নাকি একটি গোষ্ঠী? তিনি কোন দেশেরÑ এসব প্রশ্নের উত্তর গত আট বছর ধরে জানা যায়নি। অনেকের দাবি, নাকামোতোর জন্ম ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল। তিনি জাপানের মানুষ। আবার অনেকে মনে করেন, নাকামোতো কোন একজন ব্যক্তি নন। বরং মার্কিন মুলুক এবং ইউরোপের অনেকে মিলে তৈরি করেছেন বিটকয়েন। এতেই বুঝা যায়, এর উৎস কতখানি অচেনা।

বিটকয়েন কেনাবেচা কী ভাবে : চাইলে বিটকয়েন কেনা যায় এক্সচেঞ্জ অথবা কোন ব্যক্তির কাছ থেকে। বিক্রিও হয় সেভাবেই। সাধারণত কেনার চেয়ে বিক্রি করা কঠিন। কারণ, যে কোন এক্সচেঞ্জ থেকে বিটকয়েন কেনা যতটা সহজ, বিক্রি ততটা নয়। এই মুদ্রা বিক্রি করতে হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হয় কেওয়াইসি, ব্যাংক এ্যাকাউন্টের তথ্য ইত্যাদি। তাতেও হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর আলাদা করে কাউকে বিক্রিও কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বিটকয়েন লেনদেন করতে চাইলে বা ক্রয় করতে চাইলে এর জন্য প্রথমেই খুলতে হয় বিটকয়েন ওয়ালেট। যে কেউই তা খুলতে পারেন। এই ওয়ালেটে বিটকয়েন জমা থাকে। যা রাখা যায় অনলাইনে। কম্পিউটারে এবং নেট মাধ্যমে তৈরি ‘ভল্ট’ বা লকারে। লেনদেন করতে চাইলে ওই জমা বিটকয়েনই পাঠাতে হয়। কিন্তু এক বার বিটকয়েন চুরি গেলে, কোন পুলিশের ক্ষমতা নেই খুঁজে আনার।

টাকার ক্ষেত্রে পাস বই দেখে বা নেট ব্যাংকিং করে বলা যায় যে আমার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে কিংবা তা থেকে কী লেনদেন করেছি। কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। বরং তার বদলে থাকে কত কয়েন ছিল আর কত আছে। ধরুন ‘ক’ ‘খ’-কে ১ বিটকয়েন পাঠাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে লেনদেন শেষ হলে ‘ক’ ব্যক্তির এ্যাকাউন্টে দেখাবে ১ বিটকয়েন কমেছে। আর ‘খ’-এর তা বেড়েছে। তা দেখেই বোঝা যাবে হাতবদল হয়েছে বিটকয়েন। তবে এ্যাকাউন্ট জানা গেলেও, এ ক্ষেত্রে লেনদেনকারীর পরিচয় জানা যায় না।

ঝুঁকি কোথায় : ঝুঁকিটা হলো সব দেশের মুদ্রারই নিয়ন্ত্রক রয়েছে (যেমন আমাদের দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক)। বিটকয়েনের সে রকম কোন নিয়ন্ত্রক নেই। কোন দেশের সরকার বা শীর্ষ ব্যাংক দ্বারাও স্বীকৃত নয় এই মুদ্রা। এখানেই তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কারণ, ব্যাংক থেকে কারও টাকা মার গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে পারেন তিনি। শেয়ার বাজারে গোলমাল দেখার জন্য রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। কিন্তু বিটকয়েন কেউ নিয়ন্ত্রণ করে না। এবং তা স্বীকৃত না- হওয়ায়, কারও টাকা মার গেলে কারও কাছে যাওয়ার উপায় নেই। এক বার টাকা গেল, তা ফেরতের সম্ভাবনা প্রায় নেই।

অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান বিটকয়েনের মতো ডিজিটাল মুদ্রায় বেশি রিটার্নের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলছে বলেও অভিযোগ আসছে। এ ধরনের সংস্থার দাবি, এটা ইনিশিয়াল কয়েন অফারিং (আইসিও)। অর্থাৎ, বাজারে শেয়ার নথিভুক্তির সময়ে যেমন তাতে টাকা ঢালা হয়, তেমনই এই মুদ্রা বাজারে আসার সময়ই কম দামে লগ্নি করা। সেখানেও কিন্তু একই সমস্যা। কারণ, যেখানে মুদ্রাটি স্বীকৃতই নয়, সেখানে আপনার টাকা মার গেলে অভিযোগ জানানোর জন্য কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। উল্টো বেশি টাকা ঢেলে আয়কর বিভাগের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিটকয়েনের দাম বাড়ছে শুধুমাত্র এর যোগান কম বলে। এর কোন আর্থিক ভিত্তি নেই। অর্থাৎ, কোন সংস্থার শেয়ারে টাকা রাখা হলে তার ব্যবসার ধরন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা, আর্থিক হিসাব ইত্যাদি দেখা হয়। কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সে রকম কিছুই নেই। তাই চাহিদা কমে গেলেই, তার দাম পড়বে। মার খাবেন লগ্নিকারীরা।

শুরু কবে : বিটকয়েনের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০০৮ সালে শাতোশি নাকামোতোর লেখা একটি প্রবন্ধে। এরপর ২০০৯ সালে চালু হয় বিটকয়েন লেনদেন। তবে শুধুমাত্র বন্ধুদের মধ্যে ব্যবহারের জন্য (পিয়ার টু পিয়ার)। ২০১০ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু বিটকয়েনের দাম ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে পিজ্জা কিনতে এর ব্যবহার দিয়ে শুরু হয় লেনদেনও।

তৈরি কী ভাবে : বিভিন্ন দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট বা কয়েন ছাপায়। কিন্তু নেটে ব্যবহার করা হয় বলে বিটকয়েন ছাপানোর কোন প্রশ্ন নেই। তবে এই মুদ্রা ‘মাইনিং’ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত ১০ মিনিট) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কম্পিউটার থেকে হওয়া বিটকয়েনের লেনদেন নিয়ে তৈরি হয় এক-একটি ব্লক। আর এই ব্লকগুলোর হিসেব যে ‘নেট-খাতায়’ (লেজার) লেখা থাকে, তাকেই বলে ‘ব্লক-চেন’। লেনদেনের যে কোন সময়ে ব্লক-চেনই বলে দেবে কোথা থেকে বিটকয়েন কোন এ্যাকাউন্টে গেছে। তা বদলানো হলেও, ধরা পড়বে সঙ্গে সঙ্গে। এভাবে লেনদেনের হিসেব রাখার পুরো প্রক্রিয়াকে বলে ‘মাইনিং’। আর যারা এই কাজ করেন, তাদের বলে ‘মাইনার’। এই সব মাইনার ২,১০,০০০ ব্লকের সমাধান খুঁজে পেলে তাদের বিটকয়েন ‘রিওয়ার্ড’ বা উপহার হিসেবে দেয়া হয়। এভাবেই বিটকয়েন বাজারে আসে।

মাত্র ২.১ কোটি : পৃথিবীতে মাত্র ২.১ কোটিই বিটকয়েন তৈরি করা সম্ভব। কারণ মাইনারদের রিওয়ার্ড দেয়া শুরু হয়েছিল ৫০ বিটকয়েন দিয়ে। প্রতি ২.১০ লাখ ব্লকে তা অর্ধেক হয়। অর্থাৎ, ৫০ এর পরে ২৫, তার পরে ১২.৫, ৬.২৫ ইত্যাদি। হিসেব অনুসারে, প্রতিবার রিওয়ার্ড অর্ধেক হতে চার বছর লাগে। এখন তা ১২.৫। এভাবে চলতে থাকলে ২১৪০ সালে গিয়ে ২.১ কোটি বিটকয়েন তৈরি করা যাবে, যখন ওই রিওয়ার্ড হবে প্রায় শূন্য। অর্থাৎ, নতুন বিটকয়েন আসবে না। তবে অঙ্ক অবশ্য বলে যে, এই নিয়ম মানলে তার থেকে বেশি বিটকয়েন তৈরি সম্ভব। কারণ, তখন দশমিকে বা শাতোশি-তে হিসেব হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটি বিটকয়েন তৈরিতে কয়েক শ’ বছর লাগতে পারে। তাই সেই কাজ মাইনারদের পক্ষে কতটা লাভজনক, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফলে ২.১ কোটিকেই চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে ধরা হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত ॥ প্রথম দিকে বিটকয়েন নিয়ে সে ভাবে কেউ মাথা না-ঘামালেও, প্রথম তা চোখে পড়ার মতো উত্থান ঘটে ২০১৩ সালে। ওই বছরেই বিটকয়েনের দাম ছাড়ায় ১,০০০ ডলার। আর তার পরেই এই মুদ্রা নিয়ে সতর্কতা জারি হয় বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৩ সালে আমেরিকায় বাজেয়াফত করা হয় বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ এমটি-গক্সের এ্যাকাউন্ট। এর মাধ্যমে বেআইনী লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে বিটকয়েন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও সামনে আসে।

পরের বছরের শুরুতেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে বিটকয়েন। প্রায় ৮.৫০ লাখ বিটকয়েন চুরি যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাসে টোকিওতে বন্ধ হয়ে যায় মুদ্রাটির অন্যতম বড় এক্সচেঞ্জ এমটি গক্স। শেষমেশ দেউলিয়া ঘোষণা। বিটকয়েনের দাম নামে ৩০০ ডলারে। তবে গত বছরের শেষ থেকেই ফের দাম বাড়তে থাকে বিটকয়েনের। দু’বছর পরে ফের পৌঁছোয় ১,০০০ ডলারে।

চলতি বছরের বেশ কয়েক বার হ্যাকিংয়ের জেরে খবরে আসে বিটকয়েন। যেমন, ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে কম্পিউটারে হানা দেয়া হয়। সেখানে কম্পিউটার বন্ধ করে, বিটকয়েনের মাধ্যমে টাকা দাবি করে হ্যাকাররা। একইভাবে একটি টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে বেশ কিছু স্ক্রিপ্টের গোপন তথ্যও চুরি করা হয়। সে ক্ষেত্রেও বিটকয়েন মারফত টাকা দাবি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বেআইনী কাজের সঙ্গে বার বার নাম জড়িয়েছে বিটকয়েনের।

বিভিন্ন দেশেই বিটকয়েন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। কোন দেশ বা শীর্ষ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বার বার। অস্ত্র, মাদকের মতো বিভিন্ন বেআইনী লেনদেনে বিটকয়েনের ব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছে নিয়ন্ত্রকরা। চীনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বিটকয়েনের উপর। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়ে দিয়েছে, সে দেশের কোন ব্যাংক বিটকয়েনের মতো ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেন করতে পারবে না। ওই দেশে বিটকয়েন এখন দেউলিয়া! বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিটকয়েনকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এর লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে জাপানে। দেশটির এক সংস্থা কর্মীদের বিটকয়েন মারফত বেতনের একাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি শিকাগোর আগাম পণ্য বাজারে চালু হয়েছে এর লেনদেন। এতে উৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ কারা এর নিয়ন্ত্রক, সমস্যা হলে কার কাছে দৌড়াতে হবে, বিটকয়েনে কিছুই স্পষ্ট নয়। তাই রাতারাতি এই বাজার ধসে গেলেও তেমন আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু হবেন না।

বিটকয়েন ধনকুবের ॥ ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া তৈরির চিন্তা প্রথম তাদের মাথাতেই এসেছিল বলে মার্ক জুকেরবার্গের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছিলেন উইনভাইয়েরা। সেই মামলায় ৬.৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়ে আপোসে মেটান ক্যামেরন এবং টাইলার উইনকলভস। মামলা থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ১.১ কোটি ডলার ঢেলেছিলেন বিটকয়েনে। তারাই বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন ধনকুবের। এই ডিজিটাল মুদ্রায় যাদের লগ্নির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। তবে বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড খুলতে তাদের আর্জি অবশ্য খারিজ হয়েছে মার্কিন মুলুকে।

বাংলাদেশে বিটকয়েন! বাংলাদেশে বিটকয়েন নিষিদ্ধ হলেও বাইরের অনেক প্রতিষ্ঠান এ ভার্চুয়াল মুদ্রায় পেমেন্ট নিয়ে থাকে। তাই অনলাইনে বিটকয়েন আয়ের সুযোগ খুঁজতে থাকেন ফ্রিল্যান্সার আবু আবদুল্লাহ। সুযোগটি পেয়েও যান। দুই মাসে তিনি বিটকয়েনে আয় করেছেন ১৫০ ডলারের মতো। এ বিটকয়েন দিয়ে এখন ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার কথা ভাবেন এ ফ্রিল্যান্সার। ভার্চুয়াল এ মুদ্রা লেনদেনে পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ থাকায় অস্ত্র ও মাদক ছাড়াও অবৈধ নানা পণ্য কিনতে ব্যবহার হচ্ছে এটি। এমনকি যারা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার নজরদারির বাইরে থেকে লেনদেনে আগ্রহী, এমন অনেকেই বেছে নিয়েছেন বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগটি। বাংলাদেশেও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ভার্চুয়াল মুদ্রা। আর এর লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশই ফ্রিল্যান্সার।

অবশ্য আগ্রহী বেশকিছু ব্যক্তি বিটকয়েনের বৈধতা পেতে ২০১৪ সালে উদ্যোগও নেন। এর অংশ হিসেবে ওই সময় তারা বেশকিছু ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি সতর্কতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিট কয়েন কোন দেশের ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয়। বিটকয়েন বা বিটকয়েনের মতো কিংবা অন্য কোন কৃত্রিম মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সরকারের কোন সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বহির্ভূত এসব লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিজ্ঞপ্তির পর দেশে বিটকয়েন চালুর উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ, বিটকয়েনের দশ বছরও পেরোয়নি! আর যতটুকু দেখা গেছে, তাতে অনিশ্চয়তাই বেশি। অর্থ আপনার, বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও আপনার। তাই শুধুমাত্র লোভে পড়ে কষ্টের সঞ্চয় এখানে ঢালার আগে কয়েকবার চিন্তা কুরুন। চিন্তা করুন, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় সব খোয়ানোর ঝুঁকি নেবেন কিনা?বন্ধুরা, আমি যদি এমন কোন মুদ্রার কথা বলি—যা আপনি কখনো ছুঁতে পারবেন না, আপনার মানিব্যাগেও থাকবে না, কিন্তু আপনি খরচ করতে পারবেন এবং উপার্জনও করতে পারবেন। হ্যাঁ, বন্ধুরা আমি বিটকয়েনের কথায় বলছি। বিটকয়েন হলো এমন এক ধরনের মুদ্রা যা শুনতে তো কয়েন—কিন্তু এর কোন ব্যস্তব অস্তিত্ব থাকে না। এটি ইলেক্ট্রোনিক্যালি আপনার ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা যেকোনো স্টোরেজ মিডিয়াতে সেভ থাকে। শুধু এই এক লাইনেই সবকিছু শেষ নয়। এই মুদ্রার সম্পর্কে আপনার জানা প্রয়োজন আরো কিছু বিশেষ তথ্য। চলুন সবকিছু জেনে নেওয়া যাক।

বিটকয়েন
ব্যস্তবিকভাবে দেখতে গেলে একটি সাধারন কাগজ আর কোন নোটের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। কিন্তু একটি নোটের মূল্য ২ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে—কেনোনা এর পেছনে সরকার থাকে, ব্যাংক থাকে, এবং কোন অথোরিটি থাকে। তারা একসাথে বসে এটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে যে, কোন নোটের মূল্য কত হবে। আর আমরা তাদের বিশ্বাস করি এবং এই সামান্য কাগজের টুকরাটাকে মূল্যবান বানিয়ে দেয়।


কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে এই মামলাটা সম্পূর্ণই আলাদা। কেনোনা বিটকয়েনের মান না তো কোন সরকার নির্ধারণ করে দেয়, আর নাই বা কোন ব্যাংক। বিটকয়েন নিয়ন্ত্রন করার জন্য কোন নির্দিষ্ট অথোরিটিও থাকে না। ২০০৯ সালে এই মুদ্রা সর্বপ্রথম চালু করা হয়েছিলো, এবং এটি তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত চলে আসছে, যা অনলাইনে অনেক বেশি জনপ্রিয়।

বিটকয়েন

বর্তমানে ১ বিটকয়েন সমান ৫৭৯ ডলার। কয়েক বছর আগে এর মূল্য ১,২০০ ডলার পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু এর মূল্য নির্ধারণ করার জন্য কোন অথোরিটি নেই, কোন সরকার নেই এবং কোন ব্যাংক নেই, তাই এর মূল্য উঠানামা করতে থাকে (যদি এখন বিটকয়েনের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে)। আপনার এবং আমার এই মুদ্রার উপর ভরসা আছে বলেই আমরা একে অপরের সাথে এটিকে বিনিময় করতে পারি। এতে সুবিধা হলো আমি যদি আপনাকে কিছু বিটকয়েন পাঠাতে চাই, তবে আমি আপনাকে তা সরাসরি পাঠিয়ে দিতে পারবো। এমনটা নয় যে, আমাকে কোন ব্যাংকে যেতে হবে আর না হলে কোন অথোরিটির মাধ্যমে আপনাকে পাঠাতে হবে। আপনার অ্যাকাউন্ট কখনো ফ্রিজ করা সম্ভব নয় এবং আপনি যখন ইচ্ছা যাকে তখন ইচ্ছা তাকে এই মুদ্রাটি পাঠাতে পারবেন। এতে আপনি যতো সুবিধা পেতে পারেন, ততো সুবিধা সাধারনত কোন ব্যাংক বা সাধারন মুদ্রা আপনাকে দিতে পারবেনা। ব্যাংক ট্রানজেকশনে অনেক বেশি রুল থাকে, যা আপনাকে অবশ্যই অনুসরন করতে হয়, কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে কোন রুল থাকে না।

আরো পড়ুন: জিপিইউ (GPU) কি? জিপিইউ কেন জরুরী?
বিটকয়েন উপার্জন
বিটকয়েন উপার্জন

বিটকয়েন কতিপয় উপায়ে কামানো এবং খরচ করা সম্ভব। এটি উপার্জন করার সবচাইতে সহজ উপায় হলো, সরাসরি কিছু বিটকয়েন কিনে ফেলতে পারেন। এখন মনে করুন ১ বিটকয়েনের মূল্য ৫৭৯ ডলার, আপনি ৫৭৯ ডলারের বিনিময়ে সরাসরি এই মুদ্রা কিনে ফেলতে পারেন এবং এটি অনলাইনে আপনার অ্যাকাউন্টে ইলেক্ট্রোনিক্যালি জমা হয়ে যাবে। আবার এই মুদ্রা কামানোর জন্য আপনি কোন সার্ভিস বা জিনিসও বিক্রি করতে পারেন। এখন মনে করুন আমার কাছে একটি ফোন আছে, যার মূল্য ৫৭৯ ডলার। তো আমি এই ফোনটি অনলাইনে ১ বিটকয়েনের মূল্যে বিক্রি করে দিতে পারি, এতে আমার কাছে এই মুদ্রা চলে আসবে।


এছাড়া আপনি চাইলে বিটকয়েন মাইন করতে পারেন, আর এটিই হলো এই মাধ্যম যার ফলে নতুন বিটকয়েনগুলো বাজারে চলে আসে। বন্ধুরা দেখুন সাধারন কোন নোট সরকার বা অথোরিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এর মূল্য এবং সকল প্রকারের আদান প্রদান তারা নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। যদি কখনো কোন নোটের প্রয়োজন পড়ে তো তারা ইচ্ছা মতো নোট ছাপাতে পারেন এবং এভাবে নতুন নোট বাজারে চলে আসে। কিন্তু বিটকয়েন প্রিন্ট করা হয়না, এবং এর নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কেউ থাকে না, তবে এর একটি মূল্য রয়েছে যার ফলে শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক (২১ মিলিয়ন) বিটকয়েনই বাজারে থাকতে পারে। কেনোনা এই মুদ্রা অনেকবেশি বেড়ে গেলে এর মূল্য কমে যাবে, তাই এটি নিয়ন্ত্রন করার জন্য এই সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এমন একসময় আসবে যখন নতুন কোন বিটকয়েন আর মার্কেটে আসবে না।

বিটকয়েন আদান প্রদান
apple-490485_1280

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই মুদ্রা আদান প্রদান করা যায় কীভাবে? দেখুন সবচাইতে বড় ধরনের সমস্যা কিন্তু এখানেই ঘটে। আর এই বিষয়টি বোঝানোও একটু মুশকিলের কাজ। চলুন সহজ করে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা যাক।

মনেকরুন আপনি কোন পার্কে গেলেন সকালে হাটার জন্য। তো সেখানে গিয়ে দেখছেন একটি অ্যাপেল ওয়ালা অ্যাপেল বিক্রি করার জন্য বসে আছে এবং আপনি একটি অ্যাপেল কিনতে চান। এখন আপনি ওনাকে টাকা দিয়ে দিলেন আর বিনিময়ে একটি অ্যাপেল কিনে ফেললেন। এখন আপনার হাতে অ্যাপেলটি আসলো কিনা তা নিয়ে কিন্তু আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। কেনোনা আপনি অ্যাপেলটি ফিজিক্যালি দেখতে পাচ্ছেন এবং হাত দিয়ে ছুঁতে পারছেন। তাই আপনাকে অন্য কোন ব্যাক্তির প্রয়োজন পড়বে না এটি চেক করানোর জন্য। এই অ্যাপেলটি সম্পূর্ণ আপনার হয়ে যাবে এবং আপনি চাইলে তা যে কাওকে দিয়েও দিতে পারেন। আপনি এই অ্যাপেলটি আপনার বন্ধুকে দিতে পারেন ,আপনার বন্ধু সেটি আরেকজনকে দিতে পারে আর এভাবেই এই ক্রম বজায় থাকতে পারে।


কিন্তু বন্ধুরা এখন চিন্তা করে দেখুন একটি ডিজিটাল অ্যাপেলের কথা—যেটি আপনার পকেটে নয়, বরং জমা হয়ে আছে আপনার কম্পিউটার বা যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইজে। আপনি কেমন করে বুঝবেন যে, এই অ্যাপেলটি আপনার? কেমন করে নিশ্চিত হবেন এটি আপনার বন্ধুকে পাঠিয়ে দেন নি? মজা শুরু হয়ে গেছে না? যেহেতু এটি ডিজিটাল ফরম্যাটে আছে তাই একে হাজারো কপি বানানো সম্ভব। কাওকে মেইল করে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব। আবার ইন্টারনেটে রেখে দিলে তা মিলিয়নবার ডাউনলোড করাও সম্ভব।

আরো পড়ুন: এথিক্যাল হ্যাকিং ফ্রী কোর্সঃ পর্ব ২; নেটওয়ার্কিং নিয়ে সবকিছু! (বেসিক-১)
তাহলে বুঝলেন তো, ফিজিক্যাল অ্যাপেল আর ডিজিটাল অ্যাপেল বিনিময় করা কিন্তু এক বিষয় নয়। বিটকয়েন বিনিময় করার সময়ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা একই সমস্যাই পড়ে থাকেন, আর সমস্যাকে “double-spending problem” বলা হয়ে থাকে।

এখন আপনি যদি কাওকে কোন নোট বা কিছু টাকা পাঠাতে চান তবে সেই নোটটি হলো কোন ফিজিক্যাল মুদ্রা, যা একবার কাওকে দিয়ে দিলে আর আপনার কাছে থাকবে না। অথবা আপনি যদি ব্যাংকের মাধ্যমে কাওকে টাকা পাঠাতে চান, তবে আপনাকে কিছু ফী দিতে হবে কিছু কাগজপত্র স্বাক্ষর করতে হবে। এতে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে আরেকজনের অ্যাকাউন্টে টাকা যুক্ত করা হবে এবং সেই টাকা পরে একটি প্রপার চ্যানেলের মাধ্যমে সেই ব্যক্তিটির কাছে ফিজিক্যালি পৌঁছে যাবে। এখানে আপনাকে অবশ্যই ভেরিফাই করা হবে যে, আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আছে কিনা এবং আপনি কোন একটি নোটকে শুধু একবারই খরচ বা কাওকে দিয়ে দিতে পারবেন।

কিন্তু বিটকয়েন পাঠানোর সময় ব্যাপারটা একটু আলাদা। আমি যদি আপনাকে কিছু মুদ্রা পাঠাতে চাই তবে হয়তো আমি আমার ডিভাইজ থেকে সেটি আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিলাম। কিন্তু এই ট্রানজেকশন কে ভেরিফাই করে দেবে? মানে আমি যে আপনাকে কিছু মুদ্রা পাঠালাম, আবার সেটা যে আমার কাছে এখনো জমা নেই তার কি নিশ্চয়তা?

এই সকল গণ্ডগোল ঠিক করার জন্য প্রত্যেকটি বিটকয়েনের অংশের সাথে গাণিতিক সমস্যা জুড়ে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেকটি কয়েনের সাথে একটি গাণিতিক নাম্বার লাগিয়ে দেওয়া হয় একে ট্র্যাক করার জন্য। এভাবে বোঝা যায় যে কোন নাম্বারের কয়েন কখন কার কাছ থেকে কোথাই গেলো। এখন গোটা দুনিয়া জুড়ে প্রতিদিন অগুনতি কয়েন আদান প্রদান করা হয়ে থাকে তো এই ট্রানজেকশন গুলো সফল কে করিয়ে থাকে?

বিটকয়েনের এই বিশাল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে যারা এই ট্রানজেকশন গুলো সফল করিয়ে দেয়, তাদের বিটকয়েন মাইনারস বলা হয়ে থাকে। এদের কাছে অনেক শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে। এই কম্পিউটার গুলোতে অনেক পাওয়ারফুল জিপিইউ লাগানো থাকে, আর তারা যদি এই ঝামেলার গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে সবার আগে ট্রানজেকশন করিয়ে দেয় তাহলে আপনার আর আমার ট্রানজেকশন তো হয়ে যাবে এবং এই কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য মাইনারস রাও কিছু বিটকয়েন পুরস্কার স্বরূপ অর্জন করতে পারবে।


আরো পড়ুন: বিটকয়েন সম্পর্কে ৫ টি ভুল ধারণা : এগুলো বিশ্বাস করা বন্ধ করুণ!
বিটকয়েনের অসুবিধা
বিটকয়েনের অসুবিধা

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিটকয়েন কোন স্থিতিশীল মূল্যের মুদ্রা নয়—কেনোনা এটি নিয়ন্ত্রন করার জন্য কোন অথোরিটি থাকেনা। তাই এর মূল্য অনেক বেশি উঠানামা করতে পারে। একটি ১০০ টাকার নোট যেমন সময় ১০০ টাকাই থাকে কিন্তু ১ বিটকয়েনের মান সর্বদা এক থাকে না। তাই হতে পারে অনেক সময় আপনাকে অনেক লস স্বীকার করতে হতে পারে।

আপনি চাইলে বিটকয়েন থেকে যেকোনো পরিমানের অংশ খরচ করতে পারেন, এমন নয় যে আপনাকে ১ বিটকয়েনই খরচ করতে হবে। আপনি চাইলে ০.০০০১ বিটকয়েনও খরচ করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটি অনেক জায়গায় গ্রহন যোগ্য নয়। আপনি অনেক ওয়েবসাইটে একে ব্যবহার করতে পারবেন না। সব বিক্রেতা এটি গ্রহন করে থাকেন না। এতে আপনি ইচ্ছা মতো খরচ করতে পারবেন না। এর মানে অনেক জায়গায় আপনার কাছে বিটকয়েন থেকেও কিছু না থাকার বরাবর। সত্যি কথা বলতে এটি সতিই এক ধরনের ঝুঁকি, ফলে আপনি দ্বিধাই পড়ে যেতে পারেন যে, আপনার বিটকয়েনের উপর ইনভেস্ট করা ঠিক হবে কিনা।

যেহেতু এই মুদ্রা শুধু মাত্র ইলেক্ট্রোনিক্যালি জমা থাকে, তাই আপনার কম্পিউটার বা কম্পিউটিং ডিভাইজ যদি ক্র্যাশ হয়ে যায় কিংবা আপনি যদি অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড ভুলে যান তবে, আপনার সকল কয়েন গায়েব হয়ে যাবে। এবং আপনি কখনোই এই কয়েন গুলো রিকভার করতে পারবেন না।

বিটকয়েনের সুবিধা
অসুবিধার পাশাপাশি এতে অনেক সুবিধাও রয়েছে। আপনি যখন যেভাবে ইচ্ছা যে কাওকে যেকোনো পরিমানের বিটকয়েন পাঠাতে পারবেন, এতে কোন রুল অনুসরন করার প্রয়োজন পড়বেনা। তাছাড়া সকল কয়েন গাণিতিক সমস্যার সাথে জুড়ে থাকে, ফলে প্রত্যেকটি ট্রানজেকশন করার সময় হিসেব থাকে, আপনি কোথাই কখন কতো কয়েন সেন্ড করলেন বা রিসিভ করলেন। আপনার কয়েন কেউ কখনোই খরচ করতে পারবে না এবং আপনিও কারো কয়েন খরচ করতে পারবেন না।

যার বিটকয়েন নেই সেও কোন কয়েন খরচ করতে পারবে না। এবং এগুলো একটি প্রপার সিস্টেম দ্বারা মানে কম্পিউটার সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য কখনোই কেউ একাধিকবার একই বিটকয়েন খরচ করতে পারবে না।

আরো জানুন

হ্যাকার কীভাবে আপনার পিসি হাইজ্যাক করতে পারে? কীভাবে বাঁচবেন?
অনলাইনে আয় করার ৫ টি নির্ভরযোগ্য উপায়, বিস্তারিত জানুন
শেষ কথা
আপনি চাইলে বিটকয়েন মাইন করেও বিটকয়েন অর্জন করতে পারেন, কিন্তু এতে প্রয়োজন পড়বে অনেক শক্তিশালী কম্পিউটার সেটআপ। আশা করছি আজকের পোস্টটি অনেক চমৎকার ছিল এবং নানান অজানা তথ্যে সমৃদ্ধ ছিল।

আপনি কি বিটকয়েন উপার্জন করেছেন কখনো? বা উপার্জন করতে চান? আপনার কি বিটকয়েন উপার্জন করার জন্য ভালো কোন সোর্স জানা আছে? আমাদের কমেন্ট করে সবকিছু জানিয়ে দিন!

[ Post made via Android ]



Tanvir12
Banned
Banned
Posts: 20
Joined: 19 Apr 2018, 07:36
Cash on hand: 406.00
Has thanked: 1 time
Been thanked: 2 times
Afghanistan

#41591

20 Apr 2018, 11:58

সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

[ Post made via Android ]

User avatar

Foxking
Merit1
Merit1
Posts: 685
Joined: 20 Mar 2018, 22:51
Cash on hand: 8,705.74
Bank: 0.00
Has thanked: 8 times
Been thanked: 79 times
India

#41627

20 Apr 2018, 13:40

no source = warning
use a source link in future post
Read Rules:- Click Here

Tips For Quality Post : Click Here

Type Of Bad Msg: :- Read Here

Whatsapp Group :-Join Now

Adham01
Fresh Unicorn
Fresh Unicorn
Posts: 23
Joined: 22 Apr 2018, 10:56
Cash on hand: 247.00
Has thanked: 0
Been thanked: 0
Bangladesh

#42317

22 Apr 2018, 20:14

অর্জন করতে পারেন, কিন্তু এতে প্রয়োজন পড়বে অনেক শক্তিশালী কম্পিউটার সেটআপ। আশা করছি আজকের পোস্টটি অনেক চমৎকার ছিল এবং নানান অজানা তথ্যে সমৃদ্ধ ছিল। পিয়ার টু পিয়ার বা গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কম্পিউটারে পদ্ধতিতে লেনদেন করা হয়। বিটকয়েন মাইনার এর মাধ্যমে বিটকয়েন উৎপন্ন করা যায়। প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে যে কেউ বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারে। উৎপাদিত বিটকয়েন গুলো গ্রাহকের ডিজিটাল ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট এ সংরক্ষিত থাকা।

[ Post made via Android ]

Was This Topic Useful?

Post Reply
  • Similar Topics
    Replies
    Views
    Last post

Return to “"বাংলাদেশি কমিউনিটি" (Bengali)”

  • Information
  • Who is online

    Users browsing this forum: No registered users and 12 guests